লিনাক্সে ফাইল সমূহ


অনেকেই পাঠ্যসূচীতে আছে বলেই লিনাক্সটা দু’একবার ইনস্টল করে কাঠখোট্টা এবং জটিল-কঠিন মনে করে একটু কয়েকদিন দেখেই বাদ দিয়ে দেয়। কিন্তু লিনাক্স যে আজকাল খুবই ব্যবহার-বান্ধব(User Friendly) আর সহজ অনেকেই তা জানেনা।
উইন্ডোজ ভিস্তা(বিষ্ঠা?) এবার প্রবলভাবে ফ্লপ মেরেছে। আর ভাইরাস, স্পাইওয়্যার, ট্রোজান, malware ইত্যাকার ব্যাপার আপনার নিত্যসঙ্গী যাদের আছে উইন্ডোজ। তাই বলছি, লিনাক্স ব্যবহার করা শিখুন কম্পিউটার নিরাপদে ও কম ঝামেলায় ব্যবহার করুন।
আজ জানাচ্ছি লিনাক্সে ফাইল সংগঠন কীভাবে সাজানো থাকে তা নিয়ে।
× ফাইল সংগঠনের মূলে হচ্ছে রুট ফোল্ডার বা ডিরেক্টরি।
× রুট ডিরেক্টরির প্রতীক হলো “/”।
× অন্য সকল ডিরেক্টরি রুট ডিরেক্টরি থেকে শাখা-প্রশাখার দ্বারা বিস্তৃত।

সবচেয়ে কমন কতোগুলি ডিরেক্টরির নাম এখন জেনে নেই:
* / – আগেই বলেছি এটি হচ্ছে রুট ডিরেক্টরি
* /home – উইন্ডোজে যেমন Documents and Settings নামে একটি ডিরেক্টরি থাকে যেখানে ব্যবহারকারী সংক্রান্ত সবকিছু থাকে, লিনাক্সে এই ডিরেক্টরিটিই সেকাজের জন্য।
* /usr – উচ্চারণ করা হয় ‘user’ হিসেবে এটিতে মূলত Linux commands এবং utilities থাকে।
o /bin – বাইনারি এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রামসমূহ।
o /lib – প্রোগ্রাম লাইব্রেরিসমূহ, উইন্ডোজে যেমনি থাকে ‘dll’ ফাইল।
o /sbin – আরো এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম এবং ইউটিলিটি যা মূলত অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাজের জন্য।
o /doc – ডকুমেন্টেশনসমূহ থাকে এখানে।
o /src – প্রোগ্রামের সোর্সকোড বা মূলসংকেত থাকে এখানে।
* /tmp – টেম্পোরারি ফাইল থাকে এখানটায়।
* /media – উবুন্তুতে এক্সটার্নাল ডিভাইসগুলো এখানে মাউন্ট হয়। তবে হার্ডডিস্কে একাধিক পার্টিশন থাকলে সেগুলোও এখানে মাউন্ট হয়।
* /mnt – এটা আগে /media র কাজ করত। অন্যান্য লিনাক্সে এখনও করে। তবে উবুন্তু এখানে কিছু করে না।
* /etc – সব কনফিগারেশন ফাইলের জায়গা।
o /rc.d – বুট এবং শাটডাউন এর সময় ব্যবহৃত স্ক্রীপ্টগুলো থাকে এখানেই।
o /sysconfig – ডিফল্ট কনফিগারেশন ফাইলগুলো।
o /sysconfig/network-scripts – নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত স্ক্রীপ্টগুলো এখানে।
o /sysconfig/daemons – বিশেষ প্রোগ্রাম বা ডিমন(দৈত্য)সমূহ যা নেপথ্যে কাজ করে (প্রসেস এর মতো) তা থাকে এখানে।
* /bin – সব বাইনারি এক্সিকিউটেবলগুলো, যা সব ইউজারের ব্যবহার করার দরকার, তা থাকে এখানে।
* /dev – ডিভাইস সংক্রান্ত ফাইলগুলো থাকে যেগুলো বিভিন্ন ড্রাইভ, টার্মিনাল বা সিস্টেমে সংযোগকরা অন্য যেকোনো যন্ত্রাদি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
* /var – ব্যবহারকারী সংক্রান্ত বিশেষ ফাইল
o /log – এখানে এরর লগ বা সিস্টেম চলাকালীন বিভিন্ন
উল্লেখযোগ্য অবস্থার বর্ণনা থাকে।
o /spool – প্রিন্টারে ফাইলে পাঠানোর সময় স্পুলিং করে পাঠাতে হয়, সেই সাময়িক স্পুলিং ফাইল এখানে অবস্থান করে।
o /mail – ইমেইলগুলো এখানেই থাকে(কোনো মেইল ক্লায়েন্ট দিয়ে মেইল চেক করার আগ পর্যন্ত) যা সিস্টেমের মেইল-সার্ভার দিয়ে নিয়ন্ত্রিত।
* /proc – সিস্টেম ফাইলসমূহ।
* /root –root’ এর হোম ডিরেক্টরি।
* /opt – অন্যান্য অপশন।
* /sbin – আরো এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম এবং ইউটিলিটি অবস্থান করে এখানে।

লিনাক্সে টার্মিনালে (কমান্ড প্রম্পটে) ডিরেক্টরিগুলোর বিবরণী পেতে লিখুন man hier (man কমান্ডটি ম্যানুয়াল এর সংক্ষেপ যা মূলত হেলপ; hier হলো, হায়ারারকি অর্থাৎ শাখা-প্রশাখা বিন্যাস)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s