জিপির ফেসবুক অনুবাদের উদ্যোগ : পক্ষে – বিপক্ষে


আমার বাবা ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। তার নিজের মেজর ছিলো মডার্ন লিটারেচার তথা এলিজাবেথান লিটারেচার। তো সেই সুবাদে শেক্সপিয়রের নাটকগুলো তার ছিলো প্রিয়। আমি ড. সত্যপ্রসাদ সেনগুপ্তের ছোটদের গল্পে শেক্সপিয়র বইটি পড়েই ক্ষান্ত ছিলাম। কম্প্লিট শেক্সপিয়র খুলে তাতে একটাও ছবি পাইনি(:()। তদুপরি ওটা পুরোই আদ্যিকালের ইংরেজি দিয়ে লেখা। যাই হোক, আব্বা আমাকে বিশেষ জ্ঞানদানের লক্ষ্যে প্রায়ই উচ্চমার্গের লোকদের উচ্চমার্গের সাহিত্য এবং উৎকর্ষ সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলতে চাইতেন এবং এখনও চান। তেমনি, শেক্সপিয়রের জুলিয়াস সিজারের মার্ক এন্টোনির বক্তৃতাটা নাকি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এও বলতেন। কিন্তু আমি তো Classics Illustrated কমিকে জুলিয়াস সিজার পড়েছি। সুতরাং আমার মার্ক এন্টোনি ভালো লাগবে কেনো? তাছাড়া জুলিয়াস সিজারের কাহিনিতে মার্ক এন্টোনি কীভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়? ছেলেবেলার ধারণাই কেন্দ্রিভূত ছিলো বাংলা সিনেমার নায়ক-নায়িকা কনসেপ্টে। অর্থাৎ যাকে নিয়ে কাহিনি সে ছাড়া অন্য সবই ফালতুবৎ।

সেই মার্ক এন্টোনি কী করেছে? বিদ্রোহী সভাসদ এবং কাছের বন্ধুরা সবাই মিলে সিজারকে মেরে ফেললেও তার বন্ধু অসাধারণ বাগ্মী এন্টোনি সুকৌশলে একটি অসাধারণ বক্তৃতা করেন। ‘সম্মানিত সুধি, আমাকে আপনাদের কানদুটো একটু ধার দিন। আমি সিজারের প্রসংশার জন্য আসিনি বরং এসেছি তাকে কবর দিতে’। এরপর তার আবেগময় বর্ণনা এমন নাটকীয় মোড় নেয় যে মৃত সিজার বনে যান নায়ক। এবং তার ফল ভোগ করেন মার্ক এন্টোনি।

জিপি অর্থাৎ দেশের সবচেয়ে বেশি লাভবান পর্যায়ে থাকা সর্ববৃহৎ মোবাইল অপারেটর গ্রামিনফোন প্রতিনিয়তই আমাদের বিরক্ত করে চলেছে। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পদ্ধতি বদলে দেবার চেষ্টা থেকে শুরু করে জিপি-ইন্টারনেট ব্যবহারকারিদের বাধ্যতামূলকভাবে অল্প রেজুলুশনের ইমেজ দেখতে বাধ্যকরা, কী’না তারা করছেনা। গতকাল আমি ব্লগার গৌতম রায়ের মেইল পেয়ে চমকে গিয়েছিলাম এই শুনে যে, জিপি নাকি ফেসবুক অনুবাদক নিয়োগ দিচ্ছে! এখন থেকে নাকি এই অনুবাদের ফলে মোবাইল থেকেও বাংলায় দেখা যাবে ফেসবুক! কী তেলেসমাতি? অনেকেই এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যেমন হাসিব (http://www.nirpata.com/?p=838) আমি বিস্তারিত তথ্যে যাচ্ছিনা।

বরং আমি একটু মার্ক এন্টোনি হবার চেষ্টা চালাই! প্রথমে একটু খুঁজে দেখি জিপি ফেসবুক অনুবাদের উদ্যোগ নেয়াতে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে:

১.

ফেসবুক অনুবাদ

ফেসবুক অনুবাদ নিয়ন্ত্রণ পাতা

ছবিটি দেখুন। সক্রিয় অনুবাদকারি ১৭০জন! আমি কস্মিনকালেও এতো অনুবাদক একসাথে দেখিনি! আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকবার ব্লগে ব্লগে লিখে ফেসবুক অনুবাদ করার জন্য অনেককে আহ্বান জানিয়েছি। কখনো অনেকে সাড়া দিয়েছেন কখনো দেননি। সর্বোচ্চ মনে হয়না ৪০জনের বেশি সক্রিয় অনুবাদক কখনো একসঙ্গে দেখেছি। কিন্তু গ্রামিনের অ্যাডটি প্রচার হবার পর থেকে ধুম পড়ে গেছে। দুপুরেও দেখেছিলাম ১১১জন। এরপর বইমেলাতে গেলাম নাসির খান সৈকত এবং তামিম শাহরিয়ার সুবিন এর সাথে ফেসবুক অনুবাদ আর এই গ্রামীনের উদ্যোগের ব্যাপারে আলাপ করতে। কিন্তু ফিরে এসে দেখি ১৭০জন হয়ে গেছে। গ্রামীনকে ধন্যবাদ দিতেই হয়!

২. জিপি যেভাবে বিজ্ঞাপনটি দিয়েছে। তাতে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার মাঝে বিপুল সাড়া পড়ে গেছে। দেখুন নিচের স্ক্রিনশটটি:

ফেসবুক অনুবাদ সংক্রান্ত আলোচনা - গ্রামীনফোন

ফেসবুক অনুবাদ সংক্রান্ত আলোচনা

কী বুঝলেন? কেবলই ফেসবুক অনুবাদ এতে প্রবলভাবে সঞ্চালিত হবে? না, এতে বাংলায় কম্পিউটারে লেখালেখি, অনলাইনে মিথস্ক্রিয়া সবই বেড়ে যাবে।

দেখুন আরেকটি ছবি:

ফেসবুক অনুবাদ সংক্রান্ত আলোচনা

ফেসবুক অনুবাদ সংক্রান্ত আলোচনা

অনেকেই বাংলা কী করে লেখা যাবে। চ্যাটেও বাংলা লেখা যাবে কিনা। এমনকি সবকিছুই বাংলাতে হোক ইত্যাদি নানান কথা নিয়ে আসছেন। তারমানে একটা জোয়ার সৃষ্টি করতে পেরেছেন গ্রামীনফোন। তাদের এই বিজ্ঞাপনের ফলে ফেসবুক ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলা চর্চা সবার মধ্যে বেড়ে যাবার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাদের বিজ্ঞাপন তৃণমূল পর্যন্ত লোকের কাছে পৌঁছায় সুতরাং এর ইমপ্যাক্ট সর্বব্যাপী হবার কথা।

৩. ফেসবুকের অনুবাদে আগেই অনেকে যুক্ত ছিলেন। আমার ধারণা ২০০৬ বা ২০০৭ থেকেই ফেসবুক বাংলায় অনুবাদ শুরু হয়। আমি নিজেও সেরকম শুরুর দিকেই অনুবাদ অ্যাপ্লিকেশনটি যোগ করে নিয়েছিলাম। যদিও অনুবাদ প্রকৃত অর্থে শুরু করি অনেক অনেক দেরিতে অর্থাৎ অক্টোবর ২০০৮এ এসে। অনেক অনেক সমস্যা পাই আমরা অনুবাদকরা। সেগুলো একা একা ফেসবুককে অবহিত করা এবং সঠিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা। জিপির মতো রাঘব বোয়াল সেই দায়িত্বগুলো কাঁধে নিয়ে প্রকল্পটি যদি এগিয়ে নেয় তাহলে ভালো নয়?

৪. ফেসবুকের ইনলাইন ট্রান্সলেশন বা ইনলাইন রিপোর্টিং একটি অসাধারণ কাজ। ফ্রন্টএন্ডেই ব্যবহারকারি তার ইন্টারফেসের ভাষা নিজের মতো করে নিতে পারবে। ফেসবুকের আগে এই সুবিধা আর কেউ দেয়নি। সুতরাং ফেসবুকের অনুবাদে যুক্ত থেকে বাংলাভাষাকেও সেবা করা হবে। বাংলাভাষাও একটি সচল টেকি পরিমণ্ডলে প্রবেশ করবে বৃহত্তম সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।

৫. ফেসবুকের বর্তমান বাংলার কোড হচ্ছে bn_IN মানে ইন্ডিয়ান বাংলা! বাংলা এমন একটি ভাষা যার জন্য বাংলাদেশ নামক একটি দেশের জন্ম হয়েছে। সেই ভাষা স্বাতন্ত্র্য জায়গা পাবেনা? যারা আগেই অনুবাদ করছিলেন তার প্রায়শই ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে এই ব্যাপারে জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এখনো সুরাহা হয়নি। যদি জিপি এখানে নিয়ন্ত্রকের ভার নেয় তাহলে এধরণের আব্দার বা দাবী পূরণ করা কোনো সমস্যাই হবার কথা নয়।

৬. ফেসবুকের মাধ্যমে কতো কী করা যায় তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের রাজা-বাদশাহ-আমির-আর্মিপ্রধানগণ। এমনকি আমাদের ডিজিটাল সরকারও ফেসবুককে ব্যান করে রেখেছিলেন কিছুদিন। এমন শক্তিশালি মাধ্যমকে তো আর মহান গ্রামীনফোন উপেক্ষা করতে পারেন না, তাইনা? তাই এর সমৃদ্ধির সাথে নিজেদের কপাল ঠেঁকিয়ে আরো প্রচার চাইছেন গ্রামীন ফোন। আমি কিন্তু সমস্যা দেখিনা। ব্যবসা মানেই হচ্ছে কম বিনিয়োগে বেশি লাভের চিন্তা। গ্রামীনফোনও তাই করেছেন। ফেসবুকই একমাত্র এবং সর্ববৃহৎ সোস্যাল মিডিয়া যা CrowdSroucing এর মাধ্যমে নিজেদের ভাষা নিজেরাই অনুবাদ করে নিতে দিচ্ছে। যা কিনা গুগল পয়সা দিয়ে করায়। আর তা বেশ দুয়োও পায়। যেমন, জিমেইল বাংলা করে দেখুন অথবা ব্লগস্পটে ঘুরে দেখুন। বাংলার মান দেখলে বিবমিষা হবে। তো এমন বড় সাইটের ক্রাউডসোর্সিংয়ে নিজেদের যুক্ত করলে লাভ ছাড়া তো কোনো ক্ষতি নেই!

বাবা আরেকটা গল্প বলতেন। বলতেন মানে এখনও বলেন। সেটি হচ্ছে, আর্ল অফ চেস্টারফিল্ডের A Letter to his son। ইংরেজ আর্ল সাহেব তার ছেলেকে বলেন। DEAR BOY: There are two sorts of understandings; one of which hinders a man from ever being considerable, and the other commonly makes him ridiculous; I mean the lazy mind, and the trifling, frivolous mind: Yours, I hope, is neither. The lazy mind will not take the trouble of going to the bottom of anything; but, discouraged by the first difficulties (and everything worth knowing or having is attained with some), stops short, contents, itself with easy, and consequently superficial knowledge, and prefers a great degree of ignorance to a small degree of trouble. These people either think, or represent most things as impossible; whereas, few things are so to industry and activity. But difficulties seem to them, impossibilities, or at least they pretend to think them so—by way of excuse for their laziness. An hour’s attention to the same subject is too laborious for them; they take everything in the light in which it first presents itself; never consider, it in all its different views; and, in short, never think it through.

আব্বা আজকাল অবশ্য বলেন না আগে ছোটবেলা যেমন জোরে জোরে মুখস্ত বলতেন। কারণ আমারও মুখস্ত হয়ে গেছে শুনতে শুনতে! কিন্তু আমি বাঁচালের মতো এইসব গল্প ফাঁদছি কেনো? কারণ আছে! কারণগুলো গত দুইদিনের গ্রামীনফোনের ফেসবুক অনুবাদের অসাধ্য সাধন আর বিজ্ঞাপন আর তাদের প্রেস রিলিজের পূর্ণ বিবরণ দেখলেই বুঝবেন।

১. তারা এমন ভাব করছে যেনো ফেসবুক বাংলায় নেই। বাংলায় করতে হবে।

২. ফেসবুক আগে কিছু স্বত:প্রণোদিত গাধারা অনুবাদ করেছেন কিন্তু এখন তেলা মাথায় তেল পড়বে। অর্থাৎ রাজা ফেসবুকের সাথে ছোট দেশে বড় ফোন কোম্পানি হ্যান্ডশেক করবে। আর আগের সেই গাধারা কিচ্ছুটি করতে পারেনি।

৩. মোবাইলে ফেসবুক বা অন্যান্য সাইট বাংলায় দেখা যায়না। গ্রামিনের এই প্রকল্প ম্যািজকের মাধ্যমে কারামতি করবে। কী করবে আল্লায়ই জানে!

৪. অনুবাদ করার জন্য ওমিক্রনল্যাব থেকে কেবল বাংলাফন্ট ডাউনলোড করে নিলেই নাকি হবে।

এতোই হালকাভাবে লিখিত যে সেগুলো নিয়ে চুলচেরা ব্যবচ্ছেদের দরকার নেই। যে বা যারা এই বিজ্ঞাপন তৈরি করেছেন। তারা এবং যারা প্রেস রিলিজ করেছেন প্রত্যেকেই হয় the lazy mind নয়তো the trifling, frivolous mind। কারণ তারা যে “prefers a great degree of ignorance to a small degree of trouble” করেন তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন?

যাই হোক, এইবার এই শর্মার একটি প্রমান দেখেন: আমার ফেসবুকে অনুবাদ শুরুর খতিয়ান

২০০৮ এর পর ২০০৯, ২০১০ চলে গেছে। তারমানে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে আমি অনুবাদ করি। অনুবাদক তালিকায় আমার বর্তমান অবস্থান সবার প্রথমে। কিন্তু সেই অবস্থানটি পেতে আমাকে প্রায় দীর্ঘ একবছরেরও বেশি প্রতিনিয়ত অনুবাদ করে যেতে হয়েছে। https://lenin9l.wordpress.com/2008/11/29/my-contribution-to-facebook-localization/ এধরণের পোস্ট মাঝে মাঝে দিতাম।

অনেক গল্প বলা হলো, আবার অনেক কিছুই বলা হলোনা। সবাই কষ্ট করে দেয়া লিংক থেকে অন্যান্য ব্লগে অন্যন্যদের লেখা পড়ে জানা-অজানার ফারাক ঘুঁচিয়ে নেবেন এই আশা করছি।

Advertisements

2010 in review


The stats helper monkeys at WordPress.com mulled over how this blog did in 2010, and here’s a high level summary of its overall blog health:

Healthy blog!

The Blog-Health-o-Meter™ reads Fresher than ever.

Crunchy numbers

Featured image

A helper monkey made this abstract painting, inspired by your stats.

A Boeing 747-400 passenger jet can hold 416 passengers. This blog was viewed about 3,400 times in 2010. That’s about 8 full 747s.

 

In 2010, there were 3 new posts, growing the total archive of this blog to 77 posts. There were 23 pictures uploaded, taking up a total of 5mb. That’s about 2 pictures per month.

The busiest day of the year was August 1st with 49 views. The most popular post that day was Paypal একাউন্ট একটি জরুরী প্রয়োজন.

Where did they come from?

The top referring sites in 2010 were twitter.com, facebook.com, somewhereinblog.net, en.wordpress.com, and forum.projanmo.com.

Some visitors came searching, mostly for ada lovelace, zce preparation, ফ্রী সফটওয়্যার, zce mock exam, and nsanti.d.

Attractions in 2010

These are the posts and pages that got the most views in 2010.

1

Paypal একাউন্ট একটি জরুরী প্রয়োজন January 2009
3 comments

2

My Immediate feelings after the ZCE exam July 2009
8 comments

3

IMified : Make your very own BOT (YIM-AIM-Gtalk-Jabber) December 2008
7 comments

4

ZCE হবেন? PHP শিখুন November 2008
22 comments

5

Say Goodbye to PenDrive Viruses : Turn off Autorun and make your PC running smooth again 🙂 September 2007
8 comments

প্রসঙ্গ বিজয় বনাম অভ্র :ডা. আব্দুন নূর তুষারের প্রতিক্রিয়া এবং প্রতু‍্যত্তর


তু-ষাড়, তুষার

ভিজুয়াল মিডিয়ার নন্দিত ব্যক্তিত্ব ড. আব্দুন নূর তুষার  বিজয়ের একতরফা সাফাই গেয়ে প্রতিক্রিয়া ব‍্যক্ত করেছেন। আমি তার প্রতিটি পয়েন্টেরই উত্তর দিলাম সাপ্তাহিকের অনলাইন সংস্করণে আর সেগুলোই এখন পোস্ট করছি।

[বিশেষভাবে সতর্ক করছি: সাপ্তাহিক.কম এর সাইটটি ম‍্যালওয়‍্যারে আক্রান্ত থাকায় লিংক ভিজিট করতে সতর্ক থাকতে হবে]

ডক্টর তুষার আপনি তুখোড় একজন উপস্থাপক, সফল বিতার্কিক, জনপ্রিয় মিডিযা় ব‍্যক্তিত্ব এবং একজন চিকিৎসকও। আপনার এই প্রতিক্রিযা়য় যেভাবে ফ‍্যাক্টস না জেনে বিজযে়র প্রতি বাযা়সড প্রতিক্রিযা় ব‍্যক্ত করেছেন তা সতি‍্যই দু:খজনক। আমি একে একে আপনার সবগুলো যুক্তিখণ্ডনের চেষ্টা করবো। আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করবো এই বিষযে় একটি বিস্তারিত আলোচনা করার আগে আপনার অনেক তথ‍্য এবং পরিসংখ‍্যান আপনার জেনে নেযা় প্রযো়জন।

১. কযে়ক মিনিটেই বাংলা লেখার জন‍্য যে টুল তা অভ্রের ফোনেটিক লেআউট। আরো অনেক ফোনেটিক ছিলো এবং আছে কিন্তু এটি সবচেযে় বেশি রিচ ফিচার দিযে় সবচেযে় বেশি ছডি়যে়ছে। পেশাদার মুদ্রাক্ষরিক ছাডা় সাধারণ ব‍্যবহারকারি বিজযে়র মতো ফিক্সড লেআউট ব‍্যবহার করেন না। আপনার চেনা কয়জন অপেশাদার মানুষ আছেন যাদের জীবিকার জন‍্য বাংলা লিখতে হয়না অথচ বিজযে়ই লিখেন? তাহলে স্ট‍্যাটিস্টিকসে আপনার অনুমান সতি‍্য ভাবার একটু কারণ পেতাম।

২. ‘ভাষা হোক উন্মুক্ত’ শ্লোগানটি অভ্র টিম যুক্ত করেছে স্বেচ্ছাসেবি একটি দলের ভাষার প্রতি অবদান রাখার জন‍্য একটি সবার জন‍্য ব‍্যবহার্য সফটওয়‍্যার বানানোর জন‍্য। অনুমান করে “অভ্র তৈরি কারিদের কৌশল” বলার চেযে় একটু জেনে নিলে কী ক্ষতি ডাক্তার সাহেব? অভ্র টীমের কেউ পেটের দাযে় এই সফটওয়‍্যার তৈরি করেনি। আর অভ্রের প্রধান কোডার মেহদী হাসান খান আপনার মতোই ডাক্তার(সদ‍্য পাশ করেছে)। ওরা বলা যায় এখনো কচিকাচার বয়সের। ওদের উদ্দেশ‍্য এবং কৌশল ব‍্যক্তিগতভাবেও জেনে নিতে পারতেন। অভ্রের ফোনেটিকের কোডিং এখন সবার জন‍্য উন্মুক্ত। এটির পুরো সফটওয়‍্যারের কোড সবার জন‍্য উন্মুক্ত করার ব‍্যাপারেও পদক্ষেপ চলছে বলেই জানা গেছে।

৩. “অন্য কারো বুদ্ধি ধার করে সেটা বিনামূল্যে দিযে় দিলে তাতে বাধা দেযা় যেতে পারে।” আপনাকে প্রমাণের আহ্বান জানাচ্ছি কার বুদ্ধি ধার করে বিনামূলে‍্য দিযে় দেযা় হযে়ছে?

৪. “কারো যদি নতুন বাংলা ফন্ট বা ওযা়র্ড প্রসেসর তৈরি করতে ইচ্ছা করে তবে তিনি সেটি মৌলিকভাবে করলেই পারেন। মোস্তাফা জব্বার সবাইকে চা বানানো এবং খাওযা় শেখালেন নিজের অর্থ, শ্রম ও বিনিযো়গের ঝুঁকি নিযে়, তাতে দু চামচ চিনি বেশি দিযে় সেটা ফ্রি করে দিলাম। কারণ নতুনভাবে এটা তৈরি করলে নতুনভাবে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। এতে অভ্র তৈরি যারা করেছেন তাদের কৌশলটা টের পাওযা় যায়, বিজযে়র লে আউটের ঘাডে় চডে় নিজেদের জনপ্রিয় করার চেষ্টা।”
আপনার এই মন্তবে‍্যর প্রেক্ষিতে আমাকে ভেবে নিতে হচ্ছে এই লেখাটি আপনি নিজে লিখেন নি। কারণ এখানে আপনার অজ্ঞতা প্রকট হযে়ছে বিশালভাবে। ফন্ট বা সফটওয়‍্যার কোনোটিই অমৌলিক ব‍্যবহার করা হয়নি অভ্রতে। ফন্টের কথা আনলেনই বা কী কারণে তাই বরং বোধগম‍্য নয়। অভ্রের জনপ্রিয়তা প্রধানতম কারণই হলো এর ফোনেটিক লেআউট। বিজযে়র অনুকরণে তৈরি ইউনিজয় অভ্রের মৌলিক নয় বরং তা একুশে.অর্গ এর ইউনিজযে়র অনুকরণে তৈরি। এমনকি সরকার অনুমোদিত ন‍্যাশনাল কীবোর্ড লেআউটটি আরো বেশি বিজযে়র লেআউটের মতো। তথ‍্যটি কি আপনার জানা ছিল?

৫. “কোনো পণ্য দীর্ঘদিন বাজারে থাকলে এবং তার পাইরেটেড কপি বাজারে থাকলে তার ওপর মানুষের অধিকার জন্মায় এটা কি যুক্তিসঙ্গত কথা? জনস্বার্থে কেউ তার ব্যবসাযি়ক পণ্যের লে আউট উন্মুক্ত করে দেবে এটা তো মামার বাডি়র আবদার হযে় গেল।”
পাইরেটেড কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার ঘাডে় তা প্রমাণের দায় চেপে যায়। স্বযং় মোস্তফা জব্বারও পাইরেটেড অথবা হ‍্যাকড ইত‍্যাদি মিথ‍্যা অভিযোগ থেকে সরে এসেছেন। কারণ তিনি অন্তত জানেন তার কথাগুলো কেবলই আপনার মতো করে বাযা়সড করার জন‍্যই ব‍্যবহৃত। অভ্র কোনোভাবেই পাইরেটেড নয় এবং এটি পাইরেটেডভাবে তৈরি করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণও পর্যন্ত নেই। মামার বাডি়র আবদারের ব‍্যাপারে বরং সরকারকেই জিজ্ঞেস করতে পারেন বিজযে়র মতো করে ন‍্যাশনাল লেআউট তৈরি হলো কেনো? একুশে.অর্গ কে জিজ্ঞেস করতে পারেন ইউনিজয় কেনো বিজযে়র মতো? আপনার সফটওয়‍্যার এবং কীবোর্ড লেআউট সংক্রান্ত অজ্ঞতা সতি‍্যই হতাশাব‍্যঞ্জক।

৬. ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বর্তমান সরকারের একটি দেখানো স্বপ্ন যার কোনো গন্তব‍্য নেই। কোনো মাইলস্টোন নেই। সরকারের পদলেহী মোস্তফা জব্বার সাহেব এই ধূযা় তুলে সরকারের আরো অনুকম্পা এবং প্রশ্রয় আদাযে়র চেষ্টা করায় তাকে লেখক হয়তো কটাক্ষই করে থাকবেন।

৭. “মোস্তফা জব্বারের আক্ষেপ বা স্মৃতিচারণের বর্ণনা না দিযে় প্রতিবেদকের উচিত ছিল তার সরাসরি মতামত নেযা়। বার বার লেখাটিতে মেহেদি হাসান খানকে অভ্রের জনক বলার মানেটা কি? তিনি কি নিজে একলা এটি ডেভেলপ করেছেন? আর তিনি যদি ওমিক্রনল্যাবের মালিক হযে় থাকেন তাহলে এটা কি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাকি কোনো চ্যারিটি? এই অভ্র সফ্টওযা়রটির কোথাও লেখা নেই যে এটি চিরকালের জন্য ফ্রি। লেখা আছে এটা ফ্রি ডাউনলোড করা যায়। কালকে এটা যে পণ্যে পরিণত হবে না এ ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা কোথাও নেই।”
– মোস্তফা জব্বারের মতামত নেওযা় যেমন জরুরি ছিল তেমনি জরুরি ছিল আপনার পক্ষে মেহদী হাসান খানের মতামত নেবার। তাই নয় কি? কেন এই পক্ষপাত? মেহদী হাসান খান অভ্রের জনক এই কারণেই যে তার টীমে তিনি একাই এটির সম্পূর্ণ কোডিং করেছেন। অবিসংবাদিতভাবেই তার টিমের সদস‍্যরাই এই আখ‍্যা তাকে দিযে়ছে। আপনার কি সন্দেহ জাগে একজনের পক্ষে এমন একটি সফটওয়‍্যার তৈরি সম্ভব নয়? ওমিক্রনল‍্যাব এখনো পর্যন্ত একটি চ‍্যারিটি এর সংগঠক সবাই বয়সে তরুণ। আর এর সোর্সকোড একে একে উন্মুক্ত হচ্ছে সবগুলো প্ল‍্যাটফর্মের জন‍্যই।

৮. অভ্রে রোমান হরফে এ এম আই টাইপ করলে সেটা আমি হিসেবে দেখানোর সুযোগ আছে। বিষয়টি ভযা়বহ। তরুণ সমাজ আর বানান শিখবে না। ভবিষ্যতে পেপারলেস সমাজে তাকে আর বাংলা বানান লেখা বা শেখার দরকার অনুভব করতে হবে না। আমাদের বর্ণমালা টিকে আছে তার ব্যবহারে, সেটা ভুলে গিযে় তরুণ সমাজ বানান করবে টি ইউ এম আই, তুমি। এভাবে যদি বাংলা লেখা ঠিক হয় তাহলে একসময় বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারীরা আমাদের উর্দু হরফে বাংলা লিখতে বলেছিল আবার ইংরেজি হরফেও বাংলা লিখতে বলেছিল। তাদের ভূত দেখতে পাই আমি। কম্পিউটারে বাংলা বানান রীতি মনে রেখে কাউকে বানান করতে হবে না। ২৫ বছর পরে এর কি প্রভাব হবে সেটা কেউ ভেবেছেন? —-
ফোনেটিক পদ্ধতিতে চায়নিজরাও টাইপ করে থাকে। আমি নিজে ফোনেটিকের ব‍্যবহারকারি বা ভক্ত কোনোটাই নই। আপনার মতো আমারও মনে হয় বাংলা বানান এবং অক্ষরের সাথে সংযোগ থাকে ফিক্সড লেআউটে। কিন্তু টাইপিং শেখাবে কে? কোন লেআউটে তা শিখবে? ফোনেটিকে কোনোকিছু না শিখেই কযে়ক মিনিটে অনাযা়সে বাংলা লেখা যায় জেনেও কয়জন ফিক্সড লেআউটের কমপক্ষে ৩০টি পজিশন মুখস্ত করবে? নন্দ ঘোষ অভ্র বা অভ্র টিমের হতে হবে কেনো? ফোনেটিক লেআউটের মৃত‍্যু চান আপনি? নাকি যারা ফোনেটিকে অভ‍্যস্ত তাদের বাংলা লেখা রহিত করতে চান?

১০. “তবে লে আউট এর মিল দেখে মনে হয় এখানে খানিকটা হলেও একই কোডিং থাকতেই হবে।”
আপনার পরিচিত সফটওয়‍্যার ডেভেলপারদের সাথে কথা বলে দযা় করে জেনে নিন ব‍্যাপারটি। অনলাইনে অভ্র ছাডা়ও বাংলা লেখা যায়। আর তা যায় উন্মুক্ত সোর্সকোড জাভাস্ক্রীপ্ট দিযে়। আমি এখানে টাইপ করছি তেমনি ইউনিজয় লেআউট দিযে়। অর্থাৎ সাপ্তাহিক.কম নিজেরাও মোস্তফা জব্বারের সোর্সকোড চুরি করেছে বা পাইরেট করেছে। যেহেতু লেআউট মিলে যায় সুতরাং আপনার সুবর্ণ সূত্রে মিলে গেল খাপে খাপ। কিন্তু আমি একজন প্রোগ্রামার বলেই জানি তেমন কিছুই ঘটেনি। দযা় করে এভাবে পক্ষপাতমূলক প্রতিক্রিযা়র পূর্বে যথেষ্ট তত্ত্ব ও তথ‍্য সংগ্রহ করে নেবেন।

১১. “ইউনিকোড পুরনো বিজযে়র ভার্সনে থাকবে না এটাও তো স্বাভাবিক। পুরনো টযো়টা গাডি়তে কি এখনকার মতো টিভি, ন্যাভিগেটর এসব ছিল?”

— কিন্তু আপনার কি তাতে?

১২. অভ্র ফন্ট পাইরেসি করে নাই এটা বলা যাবে যদি অভ্রের ফন্টগুলোর চেহারা বিজযে়র ফন্টগুলোর চাইতে একদম আলাদা হয়। যারা অভ্র ব্যবহার করেন তারা এটা ভালো বলবেন। ফন্ট কেবল কোডিং না, এটার চেহারাটাই আসল। ব্যবহারকারী ফন্টের কোডিং দেখেন না এর চেহারা দেখেন। ভিন্ন কোডিংএ একই চেহারার ফন্ট তৈরি করা সম্ভব। সেটাও কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন কারণ সেখানে ডিজাইন নকল করা হযে়ছে।
এই গুরুতর অভিযোগটি আপনি কার প্ররোচনায় করলেন? স্বযং় মোস্তফা জব্বারও তো এমন অভিযোগ তোলেননি। নামকরা প্রথম সারির দৈনিক গুলোও সোলায়মানলিপি ফন্টে অনলাইনে প্রকাশ করে থাকে। ফন্টটির ডেভেলপার অভ্র টিমেরই নয় বরং একুশে.অর্গ এর। এই অভিযোগের সাথে কোন কোন ফন্ট নকল হযে়ছে বলে ধারণা করা হযে়ছে তার তালিকা দিন।

১৩. আগে এ কার, পরে একার, দুবার চাপ, একবার চাপ এগুলো মৌলিক পার্থক্য না। মৌলিক পার্থক্য বুঝতে হলে দেখতে হবে, জে চাপলে ক হয় কিনা? কিংবা জি চাপ দিযে় দিযে়ই যুক্তাক্ষর বানাতে হয় কিনা?
ঠিক আছে। ন‍্যাশনাল কীবোর্ড আর ইউনিজয়ও দেখুন। বাজারে বহুলভাবে প্রচলিত অন‍্য সফটওয়‍্যারে(লেখনি, প্রশিকাশব্দ, প্রবর্তন এবং আরো অগুণতি) দেযা় সরাসরি বিজয় নামের লেআউটগুলোও দেখুন। তারপর আসুন কেনো নন্দঘোষ অভ্রেই দোষ? ৫কোটি টাকা নির্বাচন কমিশন থেকে মোস্তফা জব্বার পেলেন না বলে?

১৪. অভ্রে ভুল তাডা়তাডি় সংশোধন করা যায় এটা অবশ্যই একটি সুবিধা। কিন্তু এটা তো লে আউটের সঙ্গে সম্পর্কিত না।
লেআউটের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এটা বুঝলে আপনার এটাও বোঝার কথা যে লেআউটটি একা অভ্রই ব‍‍্যবহার করেনা। বাজারে আরো অনেকেই করে থাকে। সুতরাং একা অভ্র এর উত্তর দিতে বাধ‍্য থাকবে কেনো? সবার আগে কেনো ন‍্যাশনাল কীবোর্ডের বৈধতা নিয়েই চ‍্যালেঞ্জ করবেন না?

১৫. “এক বাটনে চাপ দিযে় ফন্ট বদলানো এটা অনেক অনেক পেছনে পডে় থাকার বিষয় না। যারা একসময় ওযা়র্ড স্টার আর ওযা়র্ড পারফেক্ট ব্যবহার করতেন তারা জানেন যে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে এমএস ওযা়র্ডের চেযে় এগিযে় ছিল। এটা ব্যবহারকারীর অভ্যাসের বিষয়। বিজযে়র ব্যবহারকারীরা অভ্যস্ত বলেই বিজয় তার ফন্ট সিলেকশন ও স্টার্টিংযে়র ব্যাপারটি একই রেখে দিযে়ছে।”
আমি ওয়ার্ডস্টার এবং ওয়ার্ডপারফেক্ট দুটোরই ব‍্যবহারকারি ছিলাম(২৮৬ প্রসেসর আমলের)। ওগুলোর সাথে এমএসওয়ার্ডের তুলনা করলে যান্ত্রিক টাইপরাইটার বনাম টাইপরাইটার তুলনার মতো হয়ে যায়।

১৬. অভ্রের লিনাক্স ভার্সন আছে কারণ এটি ফ্রি। বিজয় যেহেতু ব্যবসাযি়ক পণ্য তাই এটার লিনাক্স ভার্সন না থাকাটাই স্বাভাবিক। লিনাক্সে কি ফ্রি ছাড়া অন‍‍্য সফটওয়‍্যার থাকেনা? আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি কয়েকশো বা কয়েক হাজার ডলার দিয়ে কিনতে হয় এমন সফটওয়‍্যারও লিনাক্সে আছে। বিজয় বা অভ্রের মতো মামুলি কীবোর্ড ইন্টারফেস নয় সেগুলো। উদাহরণ জেন্ড স্টুডিও (৪০০ ডলার)

১৭. “অভ্র বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় আর বিজয় টাকা দিযে় কিনতে হয়। এটা অবশ্যই পার্থক্য। যেমন সাপ্তাহিকে নেট ভার্সন ফ্রি কিন্তু আমি ছাপানো পত্রিকা টাকা দিযে় কিনি। আামি কি এখন বলতে পারি যে ছাপানো সাপ্তাহিক বের করা যাবে না অথবা এটা ফ্রি করে দেযা় উচিত? প্রতিবেদক চাকরি না করে শুধু নেটে লেখালেখি করে ফ্রি সংবাদ দিলে মানুষের অনেক উপকার হতো এতে? কিন্তু একদিন তিনি নিজেই সাংবাদিকতা ছেডে় দিতেন পেট চালাতে গিযে়। এ কারণেই সফ্টওয়্যারও বিক্রি করতে হয় কাউকে কাউকে।” উদাহরণটি পুরোপুরি এক হলো না। অভ্র স্বেচ্ছায় তাদের সার্ভিস ফ্রিতে দিচ্ছে। টেড.কম এর ইদানিংকার আবিস্কৃত অনেক টেকনোলজি দেখলে হয়তো আপনার এমনও ধারণা হবে যে প্রিন্টেড পত্রিকার দিন শেষ হলো বলে। বিশ্বের অনেক পত্রিকাই আস্তে আস্তে কেবল অনলাইন সংস্করণে চলে যাচ্ছে।

১৮. অভ্রতে নিজের কী-বোর্ড নিজে তৈরি করে নেযা় যায়। এটা যেমন সুবিধা তেমন অসুবিধাও। মনে করেন আপনি কারো বাংলা টাইপিং স্পীড পরীক্ষা করবেন। অথবা কাউকে টাইপ করার জন্য বা কম্পোজ করার জন্য চাকরি দেবেন। সবাই সঙ্গে যার যার একটা কী-বোর্ড লে আউট নিযে় এলো। এটা পার্সোনাল ব্লগ লেখার জন্য ঠিক হতে পারে, কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ঠিক না। কেননা এরপর সেই ডকুমেন্টটি এডিট করতে হলে সেই লোকটাকেই লাগবে আপনার। আপনার প্রতিষ্ঠানের একেকটি কম্পিউটারে থাকবে একেক লে আউটের কী-বোর্ড। সাপ্তাহিক-এর কর্তৃপক্ষ নিজে এটি তার অফিসে করতে রাজি হবেন?
আপনার লেআউট আর সফটওয়‍্যার সংক্রান্ত অজ্ঞতাই কেবল এই মন্তব্যে প্রকাশ পাচ্ছে। মজার ব‍্যাপার হলো, ইউনিকোডে লিখিত সেই ধরণের একটি ডকুমেন্ট যেকোনো সফটওয়‍্যার দিয়েই এডিট করা যাবে টাইপিস্ট যদি তা অভ্র ফোনেটিকেও করে থাকে তবুও তা জাতীয় বা ইউনিবিজয় ব‍্যবহার করেই তা এডিট করা যাবে। লেআউটের সাথে এর বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই।

১৯. অটো কারেক্ট ফিচারের সমস্যাটিও কিন্তু কোনো মৌলিক পার্থক্য না। অটো কারেক্ট অফ করে দিলে বিজযে়র অক্ষর বা শব্দ পাল্টে যাওযা়ও বন্ধ হযে় যায়। এর কারণ বিজয় ইংরেজীর আদলে আসকিতে করা। আর অভ্র ইউনিকোডে করা যা বাংলাকে সরাসরি সাপোর্ট করে।

২০. মোস্তফা জব্বারকে কাবুলিওযা়লার সঙ্গে তুলনা করাটা অন্যায়। একজন মানুষ ৩০ বছর একটি খাতে শ্রম দিলেন, দেশের কম্পিউটার ব্যবসাযী়দের বার বার নেতৃত্ব দিলেন, বাংলা ভাষাকে কম্পিউটারে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিলেন। এর সঙ্গে সুদে ধার দেযা় কাবুলিওযা়লার মিল কোথায়? তার নিজের ধারণাপ্রসূত সফ্টওয়্যারটির স্বত্ব নিজের কাছে থাকবে না এটা কি দাবি করা উচিত? তার মানে বিল গেটস, স্টিভ জবস কিংবা ফেসবুকের জুকারবার্গ সবাই তো কাবুলিওযা়লা। ফেসবুকের ভেতরে বিজ্ঞাপনের টাকা তো তাহলে জুকারবার্গের উচিত আমাদের সঙ্গে শেযা়র করা।
তার সফটওয়‍‍্যারের সত্ত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছেন না। প্রশ্ন হচ্ছে কীবোর্ড লেআউট নিয়ে। তিনি অতীতে মাইক্রোসফটকেও ফিরিয়ে দিয়েছেন বাংলার জন‍্য একটি ফ্রি লেআউট উপহার দেয়া থেকে। আর নিজের বিজয় কীবোর্ড প‍্যাটেন্ট করে নিয়েছেন তা থেকে পয়সা আদায় করার জন‍্য। আমি যে বাংলা লিখছি আমি তো বিজয় বা অভ্র কোনো সফটওয়‍্যারই ব‍্যবহার করছিনা। লিনাক্সে অপারেটিং সিস্টেমেই কীবোর্ড লেআউট দেয়া থাকে। সেরকম উইন্ডোজেও থাকতো যদি মোস্তফা জব্বার বাধা না দিতেন। জাতীয় কীবোর্ড লেআউট তৈরি করার পর দেখা গেলো তা বিজয়ের সাথে প্রায় হুবহু মিলে যায়। কেনো? জব্বার সাহেবের কথা মতো এটিই সবচেয়ে অপটিমাইজড লেআউট বলে? আপনার মতে বাংলা লেখার একমাত্র লেআউট হওয়া উচিৎ বিজয়। তো এই মনোপলি করে দিলে আপনার কোনো লাভ-ক্ষতি জড়িত থাকবে কি?

২১. ২০০৩ সালে ইউনিবিজয় তৈরি করেছেন যারা, তার অনেক আগে থেকেই মোস্তফা জব্বারের বিজয় লে আউট বাজারে ছিল। তাই মাত্র ৮টা কি অদল বদল করে ১০৫ টা কী-বোর্ডের একটি লে আউটের সঙ্গে কোনো মিল নেই বলাটা কতটুকু যৌক্তিক দাবি।
পুরোপুরি বিজয় লেআউট ব‍্যবহার করে লেখনি সফটওয়‍্যারটি, প্রশিকাশব্দ, প্রবর্তনও এমন কমপক্ষে আরো ৫/৬টিতেও তাই। ন‍্যাশনাল কীবোর্ডে মাত্র ৩টি কী এর পার্থক‍্য। একুশে.অর্গ এর তৈরি ইউনিজয়(যার অনুকরণে ইউনিবিজয় প্রণীত)ও বিজয়ের সাথে প্রায় হুবহু মিলে যায়। নন্দঘোষ অভ্র তাহলে দোষটা এই করলো যে তার জনপ্রিয় সফটওয়‍্যারে কেনো ইউনিজয় লেআউট যুক্ত করলো? কিন্তু অভিযোগের আঙ্গুল কেবল অভ্রের প্রতি কেনো? কারণ, ৫কোটি টাকা নির্বাচন কমিশন থেকে হারানো। দেশের হাজার কোটি টাকা লুটে নিতে পারে রাজনীতিবিদগণ আর মোস্তফা জব্বার পারবেন না? যিনি বছরের পর বছর বিটিভির বস্তাপচা ‘কম্পিউটার’ নামক অনুষ্ঠান করে যাচ্ছেন নিজের পরিবার আর প্রতিষ্ঠানের প্রচারের স্বার্থে। যিনি কপিপেস্ট করে মাধ‍্যমিক ও উচ্চমাধ‍্যমিকের পাঠ‍্যবই লিখেছেন। যদিও দেশে অনেক অনেক উচ্চশিক্ষিত কম্পিউটার বিজ্ঞানি আছেন তবুও তিনি কী করে সেই কাজ পান? তিনি কী ভারতীয় ফন্ট থেকে কপি করে নিজের করে ফেলেন নি?

২২. একজন ব্যবসাযী় যদি মনে করেন কেউ তার স্বত্ব লঙ্ঘন করেছে তিনি তো তার প্রতিকার চাইতেই পারেন। এটা নিযে় আইনসঙ্গত লডা়ই না করে, পত্রপত্রিকা, নেট কিংবা ব্লগে মোস্তাফা জব্বারকে কাবুলিওযা়লা, লোভী, কার্টুন ক্যারেকটার কিংবা তাকে নিযে় অসম্মানজনক ছডা় কবিতা লেখা প্রকৃতপক্ষে অভদ্রতা ছাডা় আর কিছু না।
একাজটি অভ্র টিমের কেউই করছেন না। বরং করছেন স্বতস্ফুর্ত দেশি প্রবাসিগণ। উইন্ডোজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পূর্বে অনেক কঠিন ও দুসাধ‍্য বলে পরিচিত লিনাক্স এখন জায়গা করে নিচ্ছে। এক সময় আপনি যেমন কষ্ট করে ওয়ার্ডস্টার, ওয়ার্ডপারফেক্ট ব‍্যবহার করেছেন তেমন কঠিন তো নয়ই বরং লিনাক্সের উবুন্তু অপারেটিং সিস্টেম অনেকটাই ভিসতার মতোই সহজ। গালি দেয়া অবশ‍্যই মন্দ কাজ। তবে বিলগেটস কোথাও অভিযোগ করছেন না সেসব নিয়ে।

২৩. “সবাই তাদের সব সফ্টওয়্যার জনপ্রিয় হযে় গেলেই যদি ফ্রি করে দিতে বাধ্য হন সেটা কি এই শিল্পের অভ্যন্তরীণ বিকাশের জন্য সহায়ক হবে।” তার সফটওয়‍্যার ফ্রি করে দিতে কেউ বলছে না। বরং লেআউট প‍্যাটেন্ট করাটাই তার অন‍্যায়। যা আগেই ব‍্যাখ‍্যা করেছি কেনো।

২৪. প্রতিবেদকের ব‍্যাপারে মন্তব‍্য করার প্রযো়জনবোধ করছিনা।

২৫. সফটওয়‍্যার ফ্রি করে দিতে কেউ দাবি করছেন না, সেটি বোধহয় আপনি খেযা়ল করেননি। বরং একটি লেআউট দরকার যেটিতে ফিক্সড লেআউটে লিখবে সবাই কোনো রয়‍্যালটি প্রদান ছাডা়ই। যেমন ন‍্যাশনাল লেআউটে হতে পারতো। কিন্তু সেটিই বিজয় লেআউটের কপিমাত্র। সেটিও কিন্তু ফ্রি এবং কোনো সফটওয়‍্যার নয়।

সাপ্তাহিক.কম এ তার প্রতিক্রিয়া এখানেই আমি মন্তব্যগুলো করেছি কিন্তু সাইটটি ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত তাই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে

কম্পিউটার টুমরোতে প্রকাশিত আমার লেখাগুলো


কম্পিউটার টুমরো পত্রিকায় টেকনিক্যাল রাইটার/ডিপার্টমেন্টাল এডিটর হিসেবে ছিলাম বেশকিছু দিন। এখানে কতগুলো প্রকাশিত লেখা দিলাম।  ‘ডক্টর টুমরো’ নামক কলামটিতে আমার সম্পাদিত এবং প্রদত্ত প্রশ্নের উত্তর ও টিপস/ট্রিকসও সাথে দিলাম। অনেকের কাজে লাগতে পারে।

প্রচ্ছদ রচনা: হোম নেটওয়ার্কিং

প্রচ্ছদ রচনা: ডিজিটাল মিউজিক
বিশেষ রচনা: হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ রিকভারি

উপ-প্রচ্ছদ রচনা: সফটওয়্যার পাইরেসি প্রতিরোধের কৌশল

C/C++ কোড অপটিমাইজেশন

প্রোগ্রামিং ওয়ার্কশপ: সি++ এ এডিও ডাটাবেজ

ইন্টারনেট টুমরো: আড্ডাঘরের লাইভ আড্ডায়

টুমরো’জ ল্যাব: উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিসপ্যাকের স্লিপস্ট্রিমিং

প্রোগ্রামিং ওয়ার্কশপ: ভিবি৬ এ এক্সপি’র লুক-এন-ফিল

মাল্টিমিডিয়া: কোয়ার্ক এক্সপ্রেস বনাম ইনডিজাইন

ডক্টর টুমরো ২০০৪/নভেম্বর

ডক্টর টুমরো ২০০৪/ডিসেম্বর

ডক্টর টুমরো ২০০৫/ফেব্রুয়ারি

ডক্টর টুমরো ২০০৫/মে

ডক্টর টুমরো ২০০৫/জুন

ডক্টর টুমরো ২০০৫/জুলাই

ডক্টর টুমরো ২০০৫/আগস্ট

ডক্টর টুমরো ২০০৫/সেপ্টেম্বর

ডক্টর টুমরো: ২০০৫/অক্টোবর

ডক্টর টুমরো: ২০০৫/নভেম্বর

ডক্টর টুমরো: ২০০৬/জানুয়ারি

লেখাগুলো বেশকিছুদিন আমার ডোমেইন http://www.doctortomorrow.com এ দিয়ে রেখেছিলাম, যেখানে পিএইচপি সংক্রান্ত কাজগুলো হোস্ট করতাম। ২০০৮এ বেখেয়ালে ডোমেইনটি হাতছাড়া হয়ে যায় এরপর থেকে লেখাগুলো আমার নষ্ট কম্পিউটারেই পড়ে ছিলো। আজ সেই ডোমেইনের গুগল অ্যাপস এর হোস্টে গিয়ে লেখাগুলো পেয়ে ভাবলাম এখানে পোস্ট করে দেই। 🙂

৪০টি টিপস(সাথে বোনাস): PHP অপটিমাইজ করুন


1. কোনো মেথড যদি static করা যায় তাহলে তাই করুন, কারণ তাতে স্পীড ৪গুণ বাড়বে।
2. echo কনস্ট্রাক্টটি print এর চাইতে দ্রুততর। তবে print এর একটি রিটার্ন ভ্যালু আছে এবং এটি মাত্র একটি প্যারামিটার নেয়।
3. কনক্যাট করার চেয়ে echo এর একাধিক প্যারামিটার পদ্ধতি অর্থাৎ কমা ব্যবহার করে স্ট্রিং আর ভ্যারিয়েবল আলাদা করুন।
4. for লুপের maxvalue আগেই নির্ধারণ করুন, লুপের ভেতর সেটি করবেন না। অথাৎ ক্যালকুলেট করে লুপ চলাকালীন যাতে প্রতিবার বের করতে না হয়।
5. আপনার ব্যবহৃত ভ্যারিয়েবলগুলোকে আনসেট করে মেমোরি ফ্রি করুন, বিশেষ করে বড় বড় অ্যারে নিয়ে যখন কাজ করবেন, সেগুলোকে আনসেট করতে ভুলবেন না।
6. __get, __set, __autoload এজাতীয় ম্যাজিক মেথডগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে ভালো। তবে আজকাল ফ্রেমওয়ার্কগুলোতে এগুলো ব্যবহার করা হয় অনেক বেশি পরিমাণে।
7. require_once() ফাংশনটি এক্সপেনসিভ, পারলে এটির ব্যবহার করবেন না।
8. যদি আপনার ফাইলসমূহের ইনক্লুড পাথ জানা থাকে তবে অ্যাবসোলিউট পাথ ব্যবহার করুন(প্রোগ্রাম এক্সিকিউশন অনেক দ্রুততর হবে)।
9. যদি আপনার স্ক্রিপ্টটি ঠিক কখন এক্সিকিশন শুরু করেছে জানতে চান, তাহলে $_SERVER[’REQUEST_TIME’] ব্যবহার করুন time() নয়।
10. যদি সম্ভব হয় তবে, strncasecmp, strpbrk এবং stripos প্রভৃতি ব্যবহার করুন regex এর বদলে। কারণ রেগুলার এক্সপ্রেশন এর এক্সিকিউশন মন্থর।
11. str_replace ফাংশনটি preg_replace এর চাইতেও দ্রুততর, কিন্তু strtr ফাংশনটি str_replace এর তুলনায়ও ৪গুণ দ্রুততর।
12. যদি কোনো ফাংশন যেমন স্ট্রিং রিপ্লেসমেন্ট ফাংশন অ্যারে এবং সিঙ্গল ক্যারেক্টার উভয়ই আরগুমেন্ট হিসেবে নেয়, আর আপনার আরগুমেন্ট লিস্ট যদি খুব বড়া না হয়। তাহলে হাতেই লিখেদিন কয়েকটি রিপ্লেসমেন্ট স্টেটমেন্ট(এক লাইনেই অ্যারেতে পুরো আরগুমেন্ট পাস করার বদলে), যাতে একটি একটি করে ক্যারেক্টার পাস করবেন।
13. যেখানেই সম্ভব if, else if এর জঙ্গলের চেয়ে switch-case ব্যবহার করুন। পিএইচপি ৬ এ goto স্টেটমেন্টটিও ফিরে আসছে!
14. Error suppression অপারেটর @ ব্যবহার করলে স্ক্রীপ্ট অনেক মন্থর চলবে। তাই যখন-তখন এটি ব্যবহার করবেন না। এমনকি ডিবাগিংও করা কঠিন হয়ে যায় এটি ব্যবহারে।
15. অ্যাপাচি’র mod_deflate অন করে দিন।
16. ডাটাবেজ কানেকশন নিয়ে কাজ করা হয়ে গেলেই তা ক্লোজ করে দিন।
17. $row[’id’] এভাবে লিখলে তা $row[id] এর চেয়ে ৭ গুণ দ্রুততর হবে। কারণ ” দিয়ে আগেই বলে দেয়া হচ্ছে কি করতে হবে, ” না দিলে গরু খোঁজা শেষ করে তারপর কাজ করে। :)
18. Error messages are expensive টেস্টিং এর সময় এরর মেসেজ রাখুন, প্রোডাকশনে এরর বাদ।
19. for লুপের ভেতরে ফাংশন ব্যবহার এড়িয়ে চলবেন, যেমন: for ($x=0; $x < count($array); $x) এখানে count() ফাংশনটি বারবার কল হবে। 4 নং পয়েন্ট দেখুন।
20. কোনো মেথডের লোকাল ভ্যারিয়েবলকে ইনক্রিমেন্ট করা অপেক্ষাকৃত দ্রুততর। যা কিনা কোনো ফাংশনের লোকাল ভ্যারিয়েবলকে কল করার মতোই সমগতির।

21. গ্লোবাল ভ্যারিয়েবল এর ইনক্রিমেন্ট একটি লোকাল ভ্যারিয়েবলের তুলনায় দ্বিগুণ মন্থর।
22. কোনো অবজেক্ট প্রোপার্টি’র ইনক্রিমেন্ট (যেমন $this->prop++) লোকাল ভ্যারিয়েবল ইক্রিমেন্ট থেকেও ৩গুন মন্থর।
23. ইনিশিয়ালাইজ না করা কোনো লোকাল ভ্যারিয়েবলের ইনক্রিমেন্ট ইনিশিয়ালাইজ করাটি তুলনায় ৯-১০গুণ মন্থর হবে।
24. কোনো গ্লোবাল ভ্যারিয়েবল ডিক্লেয়ার করলেন কিন্তু তার ব্যবহার করেননি, তবুও এটা এক্সিকিউশনকে মন্থর করে দেবে (মন্থরতার পরিমান কোনো লোকাল ভ্যারিয়েবলকে ইনক্রিমেন্ট করানোর সমান). PHP খুব সম্ভব এ সময় খুঁজে দেখে এই নামে কোনো গ্লোবাল ভ্যারিয়েবল আছে কিনা আগেই।
25. মেথড ইনভোক করলে তা ক্লাসের ভেতর কতগুলো মেথড রয়েছে তার উপর নির্ভরশীল নয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি টেস্ট ক্লাসের কোনো মেথডের পূর্বে বা পরে ১০টি এক্সট্রা মেথড যোগ করেও পারফর্মেন্সের হেরফের পাওয়া যায়নি(এটি সরাসরি কোনো কাজে লাগবে বলে মনে হচ্ছেনা ;))।
26. ডিরাইভড ক্লাসের মেথডগুলো বেজ ক্লাসের মেথডগুলোর চেয়েও দ্রুত কাজ করে।
27. যদি এমন একটি ফাংশন কল করা হয় যার একটি প্যারামিটার আছে তবে ফাংশনের বডিতে কোনো কোড নেই, তবে তাও কিন্তু ৭/৮টি $localvar++ অপারেশনের সমান! আর তা যদি ফাংশ না হয়ে মেথড হয় তবে তা প্রায় ১৫টি $localvar++ অপারেশনের সমান!
28. আপনার স্ট্রিং গুলোকে ‘ দিয়ে কোট করুন ” দিয়ে নয়, এতে এক্সিকিউশন কিঞ্চিত হইলেও দ্রুততর হবে, কারণ পিএইচপি “…” এর ভেতরে ভ্যারিয়েবল খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু ‘…’ এর ভেতরে খোঁজে না। অবশ্য যদি ভ্যরিয়েবল রাখতে চান তবে “…” এর ভেতরেই ব্যবহার করতে হবে।
29. স্ট্রীং ইকো করার সময় ডট এর বদলে কমা দিয়ে সেগুলো পৃথক করলে তা দ্রুততর হবে। তবে মনে রাখবেন এটি ইকো’র বেলায়ই খাটে কেননা কমা দিয়ে আসলে একাধিক প্যারামিটার নিচ্ছে সে। ২নং পয়েন্টেই এই কথা বলা আছে আবার এইখানে বললো কেনু? :X
30. কোনো PHP স্ক্রীপ্ট কোনো HTML পেজের চেয়ে কম করেও ২থেকে ১০ গুণ মন্থরতায় রান করবে অ্যাপাচিতে। তাই HTML বেশি ব্যবহার করে স্ক্রীপ্টের ব্যবহার সীমিত রাখুন। মানে মাথাব্যথা করলে মাথা কেটে ফেলুন। :P
31. আপনার পিএইচপি কোড বারবার রিকম্পাইল হবে যদি না তা ক্যাশিং করা থাকে। কোনো ক্যাশিং সফটওয়্যার কাজে লাগান আপনার সার্ভারে তা ২৫ থেকে ১০০% পর্যন্ত বেশি দ্রুততা নিশ্চিত করতে পারে। বড় কোনো সাইট করতে গেলে এসব অবশ্যই খেয়াল করা দরকার।
32. যতো ক্যাশ করা যায় করুন। memcached ব্যবহার করুন। মেমক্যাশড একটি হাই পারফর্ম্যান্স মেমোরি অবজেক্ট ক্যাশিং সিস্টেম। এটি ডাটাবেজ লোড কমিয়ে ডাইনামিক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। অপকোড ক্যাশ করাও জরুরী, তাহলে আপনার পিএইচপি কোডকে বার বার কম্পাইল করতে হচ্ছেনা।
33. যখন কোনো স্ট্রিং নিয়ে কাজ করছেন তখন আপনি যদি এর লেংথ চেক করতে চান, নিশ্চয়ই প্রথমে মনে আসবে strlen() ফাংশনটির কথা। ফাংশনটি বেশ দ্রুত কাজ করে কারণ এটির অপারেশনে কোনো ক্যালকুলেশন থাকেনা, বরং অলরেডি জানা লেংথটিই রিটার্ন করে zval নামক স্ট্রাকচার থেকে(এটি অভ্যন্তরীন সি স্টাক্ট যার মধ্যে পিএইচপি’র ভ্যারিয়েবলগুলো থাকে)। তবে যেহেতু strlen() একটি ফাংশন তাই এটি কিছুটা হলেও মন্থর, কারণ এটি আরো কয়েকটি ফাংশন কলের উপর নির্ভরশীল যেমন lowercase বা hashtable lookup ইত্যাদি। আপনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটাকে অপটিমাইজ করে নিতে পারেন isset() কনস্ট্রাক্ট ব্যবহার করে দেখুন:

Ex. if (strlen($foo) < 5) { echo “Foo is too short”; } vs. if (!isset($foo[5])) { echo “Foo is too short”; } খুবই মজার ব্যাপার!

কনস্ট্রাক্ট হওয়াতে isset() দ্রুত রান করে কারণ এতে ফাংশন লুকআপ তো নেই’ই লোয়ারকেস বা হ্যাশটেবলও দেখতে হচ্ছেনা। এধরণের চালাকি ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে বেশ মজা পাবেন নি:সন্দেহে।

34. ভ্যারিয়েবলের মান কমানো বাড়ানোর সময় $i++ সবসময়ই ++$i থেকে মন্থরতর। এটা সম্পর্কে বলা হয়েছে এটা পুরোটাই PHP নির্ভর তাই আপনার C বা Java কোডেও এই বুদ্ধি কাজে লাগাতে গেলে তেমন ফায়দা হবেনা(আগে সিতে এই অপটিমাইজেশনের কথা বলা হতো এখন কম্পাইলারেই অপটিমাইজড হবে হয়তো)। ++$i এটি PHPতে দ্রুততর কারণ $i++ এ ৪টি অপকোড ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু প্রি-ইনক্রিমেন্টে মাত্র ৩টি। সবারই জানা আছে পোস্ট ইনক্রিমেন্ট একটি টেম্পোরারি ভ্যারিয়েবল তৈরি করে এরপর তা ইনক্রিমেন্ট করে। কিন্তু প্রি-ইনক্রিমেন্ট মানটি সরাসরি ইনক্রিমেন্ট করে। Zend এর পিএইচপি অপটিমাইজারও এধরণের অপকোড অপটিমাইজ করে। তবুও এধরণের প্রাকটিস রাখা ভালো কেননা অনেক হোস্টিংয়েই কিন্তু অপকোড অপটিমাইজার ব্যবহার করা হয়না।
35. সবকিছুকেই OOP করতে হবে এমন কথা নেই, অনেক বেশি ওভারহেড তৈরি করে এবং প্রতিটি মেথড এবং অবজেক্ট কল করা হলে অনেক মেমোরি দখল হয়ে যায়। সবসময়ই ঢাল, সড়কি লাগবে না, প্রয়োজনে একটি চড়ই যথেষ্ট। ;)
36. সবধরণের ডাটা স্ট্রাকচারকেই class এ পরিণত করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই arrayও কিন্তু অনেক কাজের।
37. মেথডকে অযথাই অনেকগুলো স্প্লিট করে করার দরকার নেই। আগেই ভেবে নিন ঠিক কোন কোডগুলো বারবার আপনার ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে।
38. যদি দেখেন যে মেথডের কোনো বিশেষ অংশ আলাদা করা দরকার, রি-ফ্যাক্টরিং এর সময় তা পরেও করতে পারবেন।
39. অসংখ্য প্রিডিফাইনড ফাংশন আছে পিএইচপিতে সেগুলোর ব্যবহারে প্রাধাণ্য দিন। অনেক সময়ই সেগুলোর ব্যবহারই অনেকে জানেন না, এগুলো নিজের লেখা ফাংশনের চেয়ে দ্রুত রান করার সম্ভাবনা বেশি।
40. এটা অ্যাডভান্সড লেভেলের জন্য। আপনার কোনো ফাংশন যদি অনেক সময় সাপেক্ষ এক্সিকিউট করে তবে তা C এক্সটেনশন(PECL) হিসেবে তৈরি করে নিতে পারেন।
41. কোড প্রোফাইলিং করুন। প্রোফাইলারের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কোন কোড বেশি রান হচ্ছে, কোন অংশ বেশি সময় নিচ্ছে ইত্যাদি। সুতরাং সেইভাবে অপটিমাইজ করতে পারবেন। Xdebug এর একটি প্রোফাইলার আছে। আরো নতুন নতুন কি কি বের হচ্ছে খোঁজ রাখুন।
42. mod_gzip নামে একটি অ্যাপাচি মডিউল আছে। যা আপনার ডাটাকে অন দ্য ফ্লাই কম্প্রেস/সংকোচন করতে পারে এবং ডাটা ট্রান্সফার প্রায় ৮০% কমিয়ে দিতে সক্ষম।
43. এই ছোট আর্টিকেলটিও চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন John Lim এর পিএইচপি অপটিমাইজেশন’এর উপর লেখা।

এই আর্টিকেলটি ২০টির’ও বেশি ভাষায় অনূদিত। আর কিছুক্ষণ আগে এটি বাংলায়ও অনূদিত হলো এই অধমের দ্বারা

আর্টিকেলটি ক্রিয়েটিভ কমনস লাইসেন্সের অধীনে প্রকাশিত। কোথাও এর কোনো অংশ ব্যবহার করলে মূল সূত্রগুলো উল্লেখ বাধ্যতামূলক।

My Immediate feelings after the ZCE exam


I cant help to share the feelings right away with you now. Just came back after we finished the exam.

Its great event of joy for me and my friend Abdullah. Because we sat together on the same day. And I think this is first ever in Bangladesh that two ZCE passed at the same day. To tell you the truth, I had an attempt on 19th February this year but that was kind of rushed sitting and thats why duely failed yet was very close to passing score 😦

But the question is why I decided to go for ZCE anyway? well first and foremost is the inspiration from Hasin Hayder, who is entitled among the BD PHP community as the pioneer and guru and the Geek on PHP. Though I started learning php on 2003, I was not very strong at it until last year. But Hasin bro kept inspiring that, you can become one and you should give it a good try. On that time we (Ferdous [9th ZCE] and me) were beginner level developer at the Saifur’s corporate and started a training on PHP. Most amazingly Hasin bro inspired us making the syllabus one of the best in Bangladesh. We included so many things in it. And we taught the students the best practices in development, design and DB etc. We introduced them with the common CMSs, Forums and even Frameworks. We introduced them PHP and jQuery frameworks too!

One of our students was Sadiqur Rahman(the wonder boy and 8th ZCE!), who enrolled there saying he wants to become a ZCE! 😀

So, it was our challenge from then on. Building our bases to achieve good better best practices in the PHP development industry. We inspired all students to become bloggers, tweeterers and getting fed from the best resources on the web on what they want to excell.

Even this morning at 5am when Hasin bro asked how is the preparation? I said not upto my intentions. He said some inspiring words that I calmed myself little bit. While taking the exam I was semi nervous. Kind of knew I’m winning it, but didn’t make the mistake what I did last time(I submittend the exam in 57 minutes and reviewed only 3 questions and came out 33minutes ago). Today I almost reviewed all 70 of them and started counting. Was little nervous… but when the count reached more than 61! I stopped 😀 and submitted it! et voila I got congratulations from Zend.com

I kind of knew my friend Abdullah(he had an attempt last month and did score near to passing as well!) who started just 40 minutes after me was gonna pass as well, so it was a great feeling indeed.

Hope you guys didn’t mind this long writing. I just want to inspire new comers to PHP. We in Bangladesh should rise up and give it a good try. We need to outsource more of our intellect. We need to have our stand and we need to build a Very Best community. We need to do campaigns like WordCamp, ZendCon, PHPCon and inspire our fellow developers to become ninjas and beat the rest of the world.

I would like to share with you my old blog writing in Bangla you’d notice I wanted to see my name there very much(at least on 10th but oh well I made a milestone by sitting together two old friends together and won it) 😉  here’s the link: https://lenin9l.wordpress.com/2008/12/17/%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%87/

Originally posted at http://tech.groups.yahoo.com/group/phpexperts/message/12724